যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ে ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে। দেশটিতে শুল্কের প্রভাবে আমদানি পণ্যের দাম কিছুটা বাড়ায় ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (পিসিই) মাস ভিত্তিতে দশমিক ২ ও বার্ষিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এ তথ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) শিগগির সুদহার কমাতে পারে, এমন জোরালো প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে আগস্টের শেষ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। খবর রয়টার্স।
শুক্রবার স্পট মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৪৪৩ ডলার ১৯ সেন্টে পৌঁছেছে, যা গত ১৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। এছাড়া আগস্টের এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
এদিকে সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষ দিনে ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৫১৬ ডলার ১০ সেন্টে স্থির হয়। ডলার সূচক তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও আগস্টে তা ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
হাই রিজ ফিউচার্সের ডিরেক্টর অব মেটালস ট্রেনিং ডেভিড মেগার বলেন, ‘চলতি বছর এক-দুবার সুদহার কমানো হতে পারে। এতে স্বর্ণ ও রুপাসহ সব ধরনের ধাতুর দাম বাড়তে পারে।’
ফেডওয়াচের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর সম্ভাবনা বেড়ে প্রায় ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগে ছিল ৮৫।
এছাড়া ফেডের গভর্নর লিসা কুককে অপসারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান বিরোধ বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। কমার্জব্যাংকের এক নোটে বলা হয়েছে, ফেডের স্বাধীনতা ঘিরে এ অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের দাম আরো বাড়ছে। গত দুদিনে স্বর্ণভিত্তিক ইটিএফে বেচাকেনা হয়েছে প্রায় ১৫ টন। তবে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৪০০ ডলারের ওপরে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা সীমিত।
শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৩৯ দশমিক ৭৭ ডলার হয়েছে। এ সময় প্লাটিনামের দাম বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। আউন্সপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬২ ডলার ৮৬ সেন্টে। আর প্যালাডিয়াম বেচাকেনা হয়েছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ১০২ ডলার ৮ সেন্টে।